শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

নবীনদের কাছে প্রিয় ক্যাম্পাস

নতুন বছরে নতুন রঙে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নবীনদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ক্যাম্পাস জুড়ে দেখা যায় একঝাঁক প্রাণবন্ত, চঞ্চল নতুন মুখ। প্রতিবছর নতুনদের আগমন মাতিয়ে তোলে ক্যাম্পাস।

প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা এখন আনন্দের দিন কাটাচ্ছেন, হাসছেন প্রাণ খুলে, গাইছেন আনন্দের গান। অন্তত তাদের অনুভূতিগুলো তাই বলে। আজ তাদের অনুভূতিগুলো শুনবো আমরা, জানবো কেমন যাচ্ছে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন।

জুবায়ের হোসেন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যলয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। তার ভাষায়, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, সুন্দর এক স্বপ্নের নাম। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে অনেকটা যুদ্ধময় পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

বিশ্ববিদ্যালয় মানেই ক্যাম্পাস, বিশ্ববিদ্যালয় মানেই বন্ধু, আড্ডা, বড় ভাইয়া-আপুদের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর বিস্তৃর পরিসরে নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরা। এই অনুভূতিগুলো আসলে বিরল। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমার ক্ষেত্রেও অনুভূতিগুলো একই রকমের। প্রিয় ক্যাম্পাস, প্রিয় লালবাস, বন্ধু, আড্ডা এবং নিজেকে মেলে ধরার মধ্যে আমি আমার জীবনের তৃপ্তি খুঁজে পাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সকাল যেন সোনালী আলোর মতো দীপ্ত। প্রতিটা দিন যেন মুক্তঝরা দিন। এমন মনে হয়, যদি দিনটা না শেষ হতো, তাহলে বুঝি ভালোই হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি আঙিনা এখন আমার মনের সাথে সম্পৃক্ত। আমার জীবনের মধ্যে বড় একটা প্রাপ্তি হলো, আমি একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে আমার জীবনের আসল অর্থ উপলব্ধি করতে শেখাচ্ছে। আমি চাই এই সোনালী দিনগুলো যেন আজীবন আমার স্মরণে থাকে।

তাজরিয়ান শিকদার

তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তার ভাষায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনের চমৎকার অনুভূতির কথা কখনোই ভোলার নয়। স্কুল, কলেজের দিনগুলো কাটিয়ে প্রবেশ করলাম বহু প্রতিক্ষিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেদিন মনে ছিল আনন্দ আর চোখে ছিল কৌতূহল। ডিপার্টমেন্ট থেকে কক্ষ নম্বর জেনে নিলাম। ইতোমধ্যে ক্লাসমেটদের সাথে পরিচয় হয়ে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা সবার সাথে পরিচিত হয়ে আমি অনেক উচ্ছ্বসিত।

প্রিয় ক্যাম্পাসটি ঘুরে দেখার পর মনে হলো, আমার পড়ালেখা আজ স্বার্থক হয়েছে। সত্যি বলতে, বিশ্ববিদ্যালয় আমার জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হয়ে উঠেছে, যেটি আমাকে শিখিয়েছে অনেক কিছু, দিয়েছে অনেক জ্ঞান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব আজীবন।

খায়রুল ইসলাম আইনুল

খায়রুল একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ আমার জীবনের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনটি কখনো ভোলার নয়, ইচ্ছে করে হলেও প্রথম দিনটি ভুলতে পারবো না কোনো দিন। কলেজে থাকতেই, স্যারদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়ে অল্প একটু ধারণা পেয়েছিলাম। তখন থেকেই এই জীবনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকলাম। অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ পেলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের জন্য নবীন ও ছোট ক্যাম্পাসকেই আপন করে নিলাম। প্রেমে পড়ে গেলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার সৌন্দর্যের। আমার বিশ্ববিদ্যালয় তার অন্য সন্তানদের মতো আমাকেও আপন করে নিয়েছে। এখানে ভর্তি হয়েই, প্রথম দিন নিয়ে কল্পনাতে ছবি একে রেখেছিলাম।  এ দিনের স্বপ্নময় অনুভূতি আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।

নাফিসা শারমিন

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী শারমিন। তিনি বলেন, এতটা বছর পেরিয়ে জীবনের কাঙ্ক্ষিত দরজা তথা বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার সৌভাগ্য হলো। ভর্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ক্যাম্পাসের অনুভূতিটা একজন শিক্ষার্থীর জীবনে অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকে, তেমনি আমার জীবনেও।

প্রথম থেকেই মা-বাবার পাশাপাশি আমারও ইচ্ছা ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। দীর্ঘ ১২ বছরের পথ পাড়ি দিয়ে সুযোগ পেলাম সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার। ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ নতুন পরিচয় আমার।

মোস্তাফিজুর রহমান

তিনি জবির গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনের কথা।

চমৎকার সুন্দর নীলচে আকাশ, শারদীয় মেঘ, শিউলী ঝরা প্রভাত, প্রকৃতির সূচি শুভ্র উত্তরীয়তে প্রকৃতি যখন অনিন্দ্য সুন্দর, তখনই বিশ্ববিদ্যালয় নামক নতুন পৃথিবীতে আমার প্রথম আগমন।

মা-বাবার এবং আমার খুব ইচ্ছে ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো। অনেক পথ পাড়ি দিয়ে সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন ছুঁয়েছি আমি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জায়গা নতুন নতুন মানুষ, সব মিলিয়ে যেন এক নতুন পৃথিবী।

প্রিয় ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়ার কফির সুন্দর ঘ্রাণ, লাল বাস এবং শান্ত চত্বর, সকলের মেলবন্ধন সত্যিই যেন আমাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে।

তানিয়া তাবাসসুম

তানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণোযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের কাছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যেন এক সোনার হরিণ। এই সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে ছুটতে কেউ কেউ নাগাল পেয়েই যান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রচিত হয় হাজারো স্বপ্ন। আবার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারলে বিনষ্ট হয় হাজারো স্বপ্ন। কেউ কেউ আবার জোড়াতালি দিয়ে চালিয়ে নেন নিজের স্বপ্নকে।

তবে, আমি ব্যক্তিগতভাবে এই কয়েক দিনে শিখেছি অনেক কিছু। আমার মতে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি পরতে পরতে থাকে শিক্ষা, সেটাকে অর্জন করে নিতে হয়।

মাহমুদুল আমিন টনি

টনি জগন্নাথ বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার ছাত্র। তার ভাষায়, বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তফাৎটা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেই বোঝা যায়। স্কুল ও কলেজ জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে হাজারো স্বপ্ন নিয়ে নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রিয় ক্যাম্পাসে পা রেখে নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে হয়েছে। ক্যাম্পাস লাইফের প্রথম দিনগুলা সারা জীবন মনে রাখার মতো। নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নেয়া, নতুন মুখের সাথে পরিচিত হওয়া, এভাবে তৈরি হয় এক নতুন বন্ধন।

সানজিদা আক্তার মীম

তিনি সাংবাদিকতার নবীন শিক্ষার্থী। তার কথায়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটা শুনলেই এক অন্য রকম অনুভূতি কাজ করে। মনে হয়, তা বলে বোঝানো সম্ভব না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন তো সবার থাকে। কিন্তু সবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না।

আমি তো স্বপ্ন বিলাসী, স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আমার জন্য রূপকথার মতো ছিল। বাস্তবে তা পূরণ হবে কখনো ভাবিনি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমি এখন জবিয়ান।

ইমরানুল ইসলাম

তিনি ডিপার্টমেন্ট অব ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থী। তার অনুভূতি, যেকোনো ছাত্র-ছাত্রীর ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয় একটা স্বপ্নের নাম। আমার ক্ষেত্রে বিপরীত কিছু হয়নি।

কলেজ জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছিলাম। আর সেই থেকে আমার স্বপ্ন আমি একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো। এই স্বপ্নটি এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ডিপার্টমেন্টের সব বড় ভাই এবং আপুরা খুবই ফ্রেন্ডলি। তারা খুব চমৎকারভাবে আমাদেরকে গ্রুমিং করেছে, যাতে আমরা সুশৃঙ্খল হিসেবে গড়ে উঠতে পারি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়টি হলো, সিনিয়র এবং জুনিয়রদের মাঝে অসাধারণ বন্ডিং রয়েছে। যা সত্যিই বিস্মিত হওয়ার মতো।

সানজিদা নূর সায়মা

আমি সানজিদা, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। আমার কাছে, মানবজীবন স্বপ্নময়, বিশাল স্বপ্নের সম্ভার। জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে স্বপ্নের রঙ কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। তেমনি শিক্ষাজীবনের অন্যতম একটি স্বপ্ন হলো, একটি স্বপ্নময় বিদ্যাপীঠ।

বিশেষত যখন শিক্ষাজীবনের উচ্চ মাধ্যমিক স্তর শুরু হয়, তখন স্বপ্নের সেই বিদ্যাপীঠটি সুপ্ত বীজ থেকে অঙ্কুরিত হয়ে তার শাখা-প্রশাখা মেলে বেশ স্বচ্ছ ও গাঢ় হয়ে উঠতে থাকে। ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি বা ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা হাজার হাজার শিক্ষার্থীর চোখ-মুখে জ্বলজ্বল করতে থাকে।

কিন্তু আধুনিক যুগের এই ভ্রাম্যমাণ শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিযোগিতার দীর্ঘ সারি ঠেলে কেউ তার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের দরজায় পৌঁছে যায়, কেউ মেনে নেয় বাস্তবতার চরম সত্যকে।

মাকসুদা আক্তার পিংকি

তিনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের একজন নবীন শিক্ষার্থী। তিনি জানিয়েছেন তার ভালো লাগার কথা।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রবল ইচ্ছা এখানে ভর্তি পরীক্ষা দেয়া। শেষে আমার সেই সৌভাগ্য হলো নিজেকে স্বপ্নের জায়গায় দেখার। তখন থেকেই নতুন কিছু রঙিন স্বপ্ন, আবেগ, উদ্দীপনা আর রোমাঞ্চকর অনুভূতি নিয়েই এবছর ১ জানুয়ারি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম পা রাখা। ঠিক প্রাইমারি স্কুলের মতো করেই বাবার হাত ধরে আমি উপস্থিত হলাম আমার স্বপ্নপুরীতে। কিছুই চিনি না, পরে একজন বড় ভাইয়া আমার ডিপার্টমেন্টটা দেখিয়ে দিলেন। ক্লাসে গিয়েও দেখি অচেনা কতগুলো মুখ, তবুও সবার সাথে কথা বলে মুহূর্তের মধ্যে সবার সাথে মিশে গেলাম। ক্লাস শেষ করেই চোখে এক ঝলক স্বপ্ন নিয়েই ক্যাম্পাসটা ঘুরে দেখলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই অনুভূতি ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না। সবাই এখানে পড়ার সুযোগ পায় না, আমি পেয়েছি এবং আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। সর্বোপরি বলতে চাই, আমার ক্যাম্পাস, আমার ভালোবাসা।

লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগ (২য় বর্ষ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি