সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৫:০১ অপরাহ্ন

সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ জিনপিংয়ের

নিউজ ডেস্ক : চীনের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মঙ্গলবার এমন নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি রাখতে সেনাদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর’ ওপরেও জোর দেন তিনি।

বুধবার এনডিটিভি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্প্রতি সীমান্তে ভারত-চীনের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বললেন জিনপিং।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এ মুহূর্তে চলছে পার্লামেন্ট অধিবেশন। এর মাঝেই পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ও পিপলস আর্মড পুলিশ ফোর্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করেন জিনপিং। সেখানে তিনি যুদ্ধের প্রস্তুতি রাখার পাশাপাশি সেনাদের উদ্দেশে বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য সেনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো হুমকির বিষয় উল্লেখ করেননি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও চীনের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট ও সুচিহ্নিত আন্তর্জাতিক সীমানা নেই। তার বদলে রয়েছে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা এলএসি। যা ভারতের লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত (প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার)।

গত কয়েকদিনে এই এলএসি বরাবর দুই দেশের সেনারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন। এমনকি কয়েকজন ভারতীয় সেনাকে চীন কিছুক্ষণের জন্য আটকে রেখেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। লাদাখের গালওয়ান ভ্যালির মতো নতুন স্থানেও চীনা সেনারা ঘাঁটি তৈরি করেছে। তবে কেন দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আচমকা সামরিক উত্তেজনা শুরু হলো তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন অনেক বিশ্লেষক।

দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালীতে মোতয়েন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সঙ্গেও তুমুল সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে চীনের। ওয়াশিংটন ও বেইজিং অবশ্য তারও আগে থেকে নতুন করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে।

২২ মে সামরিক বাজেট সংশোধন করে তা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়িয়ে ১৭৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের পর সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা দেশ হলো চীন। ভারতের চেয়ে চীনের সামরিক ব্যয় তিনগুণ বেশি।

এদিকে বুধবার ভারতের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। লাদাখ সীমান্তে চীন সেনা ও যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন বাড়ালে ভারতও পাল্লা দিয়ে সেনা মোতায়েন বাড়াবে বলে সে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে চীনের আপত্তি সত্ত্বেও ভারত তা চালিয়ে যাবে বলেও সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি