বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে

বুয়েটে একটি ঘটনাটি ঘটেছে, আবরারকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তাতে সারাদেশের মানুষ ভীষণ উদ্বিগ্ন। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে আমরা পুতুল খেলায় মেতে আছি। হত্যা করাটা এখন আর কঠিন কিছু নয়। ক্যাসিনো গেমের মতো এটাও একটা পার্ট।

পুঁজিবাদের প্রকৃত চেহারার নির্মমতার শেষ দৃশ্যে এসে পৌঁছেছি। ভেতর থেকে পরমতসহিষ্ণুতা কতটা লজ্জাজনকভাবে হারাচ্ছে! প্রতি মুহূর্ত অমানবিক চরিত্র চিত্রায়িত হচ্ছে। এসবের কী মূল্য? কী তাদের মনুষ্যত্বের মূল্য? সার্থকতা? তার অবকাশই বা কোথায়?

সবাই জানে মানবিক মায়ের কান্না সত্যিকারের মায়ের কান্নার চেয়ে বানোনোই। তবু প্রকৃত মায়ের কান্নাই আমাদের কাছে ব্যাপক, দীর্ঘস্থায়ী। সেখানে কোনো স্বান্তনা চলে না। বরং স্বান্তনা জানোনোটা অস্বস্তিকর।

দুই.

আপনার মত আমার ভালো লাগছে না, ভালো হয়তো নাই লাগতে পারে, সরকারের কর্মকাণ্ডে আপনি সমালোচনা করছেন, এই কারণে আপনি শিবির, কী সহজ তকমা লাগানো। এ তকমা লাগিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা, কোনোভাবে এটা সভ্য দেশের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। এবং বহু সংগ্রামে অর্জিত গণতান্ত্রিক শক্তিকে অপঘাত করার মতোই ঘটনাটি ঘটলো। প্রতিদিনই গণতন্ত্রের ক্রাইসিস বাড়ছে। ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে গণতন্ত্র।

এটা কেনো হচ্ছে ভাবতে হবে- নিশ্চয়ই সমাজবিজ্ঞানীরা আজ-কালের মধ্যে তত্ত্ব দেবেন এ বিষয়ে।

তবে এটা স্পষ্ট, আমাদের মানসিকতা আর মানবিকতার বোধ নিম্নগামী, আমাদের চিন্তাভাবনায় দারিদ্রতা নেমেছে।

তিন.

অনেকে বলছেন আবরার বুয়েটের মেধাবী ছাত্র। নিঃসন্দেহে দেশসেরা একটা প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র সে। কিন্তু এটি আমার কাছে কোনো মূল বিষয় নয়। আমি ভাবি আবরারের পরিচয় একজন শিক্ষার্থী, সেটি মেধাবী হোক আর সাধারণেই হোক। আমি বুয়েট বলে ঘটনাটাকে প্রধান ভাবতে চাই না, কিন্তু কোনোভাবে হালকা করেও ভাবছি না। সেই সুযোগ একদমই কম। বুয়েট আজ বর্বরতার একটা প্রতীক হতে পারে, আমার কাছে বার বারই মনে হচ্ছে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। বার বার সেটি দেখছি। এক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ, প্রশাসন ব্যর্থ পুরোপুরি, শিক্ষার্থী-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এরা নিরাপত্তা দিতে পারছে না। স্কুলগুলোর সামনে এখনো ইভটিজিং বন্ধ হয়নি। ঢাকা শহরে যেমন চলছে, মাঝে মাঝে দেখি পুলিশ এসে দুই একজন চড় থাপ্পড় দেয়, এর পরদিন ইভটিজিং শুরু। তেমনি মফস্বলগুলোতেও দেখেছি। নারী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত অসহায় আর আতংকের মধ্যে থাকছে। আমরা বার বার বলছি, নারীদের কর্মস্থল, পরিবহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু কই?

চার.

প্রকৃতভাবে আমরা নিকৃষ্ট হয়ে উঠছি! তা বলে-কয়ে বুঝানো আর দরকার নেই। সবার সামনেই সেটি উন্মোচিত। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, এই মানুষগুলো নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখছি। এই দেশ কি আমার হবে না? নাকি দূর্বৃত্তদের দেশ এটা?

আমাদের সন্তানরা এখন দেশে থাকতে চায় না। কারণ ওরা এখন এদেশে অস্বস্তিতে ভুগছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ফলে মেধা পাচার হচ্ছে। মেধা চলে যাচ্ছে বাইরে।

পাঁচ.
অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থক, অথবা সুবিধাভোগী কয়েকজন বুয়েটের ঘটনাটা অন্যভাবে নেয়ার চেষ্টা করবে। তারা হয়তো বলার চেষ্টা করবে কয়েক বছর আগে ঘটে যাওয়া বুয়েটে সনি হত্যার কথা। ঘাড়টা ঘুরাবে বিএনপির দিকে। আরও অনেক কথা তারা বলবেন। কিন্তু ঘটনাগুলোতে কতভাবে আপনারা চাপ দিবেন বলেন!

ছয়.

চারপাশে এতো অরাজকতা, বর্বরতা আপনি সরব হবেন কবে?    বড় হতাশা এখন। কবে আমরা জাগবো? ‘আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে?’ একটি নতুন সকাল কিংবা সূর্যোদয়ের জন্য আমাদেরকে জাগতে হবে। প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সেই দায়িত্ব ছাত্র সমাজ-যুব সমাজের মূলত। বিপ্লবের ডাক দিতে হবে এদেরই।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি