শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল কর : বাম ঐক্য ফ্রন্ট

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : করোনা মহামারিকালে যখন মানুষের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কাজ না পেয়ে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে তারা দিশেহারা। দেশে একটা নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর অসহায় শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা, তাদের দুর্দশা অবর্ণনীয়। এই নিদারুণ দুঃসময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম ঐক্য ফ্রন্ট।

আজ ২৮ জুন ২০২০ রবিবার সকাল ১১টায় অনলাইনে বাম ঐক্য ফ্রন্ট এর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাম ঐক্য ফ্রন্টের সমন্বয়ক, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমরেড নাসির উদ্দীন আহম্মদ নাসু’র সভাপতিত্বে সভায় ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মাহবুব) আহ্বায়ক সন্তোষ গুপ্ত, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার মুর্শেদ, কমিউনিস্ট ইউনিয়নের আহ্বায়ক ইমাম গাজ্জালী, গণমুক্তি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা রাজা মিয়া, বাসদ (মাহবুব) এর কেন্দ্রীয় নেতা মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে, শুধু পাটকল শ্রমিকরা বেকার হবে ও তাদের পরিবারগুলো বিপন্ন হবে- তাই নয়। ধ্বংস হয়ে যাবে একটি সম্ভবনাময় শিল্প আর পাটচাষীরাও ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তাদের পরিবারগুলোতে বিপর্যয় নেমে আসবে।

তারা আরো বলেন, করোনাকালে দিন দিন বেকারত্ব বাড়ছে, কাজের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে পাটকল শ্রমিকদের বেতনভাতা বাকি। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এরই মধ্যে পাটকল বন্ধের ঘোষনা এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃস্টি করবে।

‘শাসকশ্রেণি মাথাব্যথ্যার জন্য মাথা কেটে ফেলার পদ্ধতি অনুসরণ করছে। যখন বিশ্বব্যাপী পলিথিনের বিকল্প বিবেচনায় পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের কদর বাড়ছে। এই শিল্পের বাজার তৈরি সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। তখন সরকার পাট সেক্টরে বিদ্যমান সমস্যা দূর না করে পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের ভ্রান্ত নীতি ও অব্যবস্থাপনায় দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এর আগে বিএনপি সরকারের সময় দেশের সর্ববৃহৎ পাটকল আদমজী বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

নেতৃবৃন্দ বলেন, পাট শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের আবেগ জড়িয়ে আছে। দেশের অর্থনীতিতে পাটের ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এই পাটকলকে ঘিরে দেশি বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। পাট শিল্প ধ্বংস করতে এর বিরুদ্ধে শুরু করেছে নানা অপপ্রচার। যেমন বিশ্ব ব্যাংক আদমজী বন্ধের জন্য বাংলাদেশকে ঋণ দেয় আর ভারতকে সমপরিমানে ঋণ দেয় নতুন পাটকল করার জন্য। সে টাকা ভারত তিনটি পাটকল করে।

রাষ্ট্রায়াত্ব পাটকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত রুখে দাঁড়ানোর জন্যে দেশের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি