বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

কক্ষ পরিদর্শককে অপদস্থ মন্ত্রীর শ্যালকের, পুলিশে দেয়ার হুমকি মেয়ের

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে এক কেন্দ্রের কক্ষ পরিদর্শককে অপদস্থ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের শ্যালক এনামুল হক।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর শ্যালকের মেয়ে ওই কক্ষের পরীক্ষার্থী কক্ষ পরিদর্শক ওই শিক্ষিকাকে পুলিশে দেয়ার হুমকি দেয়।

মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত এসএসসির বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা চলাকালে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট এ ইউ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের শ্যালক এনামুল হকের মেয়ে অর্পিতা থানাহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মানবিক শাখার শিক্ষার্থী এবং থানাহাট এ ইউ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ১২ নম্বর কক্ষে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

কেন্দ্র সচিব ও থানাহাট এ ইউ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, অর্পিতা ১২ নম্বর কক্ষের একজন পরীক্ষার্থী। বাংলা ২য়পত্রের নৈবের্তিক পরীক্ষা আধঘণ্টা সময়ের মধ্যে শেষ করতে হয়। এ সময়ের মধ্যে সব পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শেষ করে সাড়ে ১০টায় উত্তরপত্র জমা দিলেও ওই পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র জমা না দিয়ে আরও উত্তর করতে থাকে।

২-৩ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর কক্ষ পরিদর্শক চায়না বেগম জোড় করে তার কাছ থেকে উত্তরপত্র নিয়ে নেয়। এ সময় ওই পরীক্ষার্থী চিল্লাচিল্লি এবং কান্নাকাটি করলে তার পিতা এনামুল হক পরীক্ষার কক্ষে এসে চায়না বেগমকে অপদস্থ করতে থাকে। পরীক্ষার্থী অর্পিতা তাকে পুলিশে দেয়ার হুমকি দেয়।

কেন্দ্র সচিব বলেন, খবর পেয়ে আমি গিয়ে উত্তপ্ত পরিবেশ শান্ত করে ওই পরিদর্শককে ওই কক্ষ থেকে সরিয়ে অন্য কক্ষে দায়িত্বে দেই। পরীক্ষা শেষ হলে এনামুল আবারো দলীয় লোকজন নিয়ে এসে ওই শিক্ষিকার ওপর চড়াও হয়। পরে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে চায়না বেগম। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পরে চায়না বেগমকে আমি নিজে তার বাড়িতে রেখে আসি।

তিনি বলেন, উনি যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা ন্যক্কারজনক। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জানিয়েছি।

চায়না বেগম চিলমারী বিএল উচ্চবিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষক। তিনি বলেন, সময় পার হওয়ায় পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র নেয়ায় প্রথমে ওই পরীক্ষার্থী পুলিশে দেয়ার হুমকি দেয় পরে তার বাবা এসে আমাকে অপদস্থ ও অসম্মান করেন।

ওই কেন্দ্রের একাধিক শিক্ষক জানান, মন্ত্রীর শ্যালকের মেয়ে প্রথম পরীক্ষা থেকে অনৈতিক সুবিধা চেয়ে আসছে। সুবিধা না দেয়ায় মন্ত্রীর প্রভাব খাটান শ্যালক এনামুল হক।

চিলমারী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। তেমন কিছু ঘটেনি পরিবেশ এখন শান্ত আছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এরকম ঔদ্ধাত্যপূর্ণ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেনি। আমি এখনি খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এরকম ঘটে থাকলে বিষয়টি গভীরভাবে দেখা হবে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের দ্বায়িত্বশীল একাধিক নেতাকর্মী জানান, মন্ত্রীর প্রভাব দেখিয়ে এনামুল হক নানা অনিয়ম এবং অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন। এতে মন্ত্রী এবং সরকারের বদনাম হচ্ছে। মন্ত্রীর এ বিষয়ে সজাগ হওয়া উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি