বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন

এক দশক ধরে হাতুড়ি বাহিনীর কাছে কেশবপুর উপজেলা জিম্মি হয়ে পড়েছিল। আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় হাতুড়ি বাহিনীর সদস্যদের হাতে সাধারণ মানুষ নির্যাতিত হয়েছেন। তাদের বেপরোয়া আচরণের হাত থেকে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরাও রেহাই পাননি।

তবে যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে শাহীন চাকলাদার নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় কেশবপুরের চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। হাতুড়ি বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যে আত্মগোপনে গেছে। জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের সাবেক এমপিদের (সংসদ সদস্য) আশ্রয়প্রশ্রয়ে কেশবপুরে হাতুড়ি বাহিনীর সদস্যরা মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে ওঠে।

কিন্তু আসন্ন উপনির্বাচনে পৃষ্ঠপোষকরা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ায় হাতুড়ি বাহিনীর পতন শুরু হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে নয়া সমীকরণ। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌকার প্রার্থী শাহীন চাকলাদার বলেন, কেশবপুরের মাটিতে সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা ও কোনো বাহিনীর জায়গা হবে না। এখানে কোনো বাহিনী থাকবে না। কেশবপুরকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। সর্বস্তরের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে শান্তি ও স্বস্তির কেশবপুর গড়ব।

২০১১ সালের দিকে ১০-১২ জনের হাতুড়ি বাহিনী গড়ে তোলেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা খন্দকার আবদুল আজিজ। কেশবপুরের ব্রহ্মকাটি গ্রামের খন্দকার রফিকুল ইসলামের ছেলে আজিজ তৎকালীন এমপি ও হুইপ আবদুল ওহাবের ছত্রছায়ায় বাহিনীর সদস্যরা সব সময় ছোট হাতুড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াত। কারণে-অকারণে সাধারণ মানুষকে তারা হাতুড়ি পেটা করত। বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রায় দুই ডজন মামলা হয়েছে। কিন্তু তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সভা চলাকালে উপজেলা শাখার সভাপতি এসএম রুহুল আমীন ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলামের সভায় হামলা করা হয়। এ বাহিনীর মাছের ঘের দখল ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ছিল এলাকার মানুষ।

হাতুড়ি বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাইদ লাভলুর অত্যাচারে পাঁজিয়া এলাকার মানুষ আতঙ্কিত ছিল। ১৯ জন ঘের মালিকের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেছে লাভলু ও তার সহযোগীরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাতুড়ি বাহিনীর আরেক সদস্য মধ্যকুল গ্রামের গনি শেখের ছেলে জামাল মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তার নেতৃত্বে হাতুড়ি বাহিনীর সদস্যরা ২০১৮ সালের ১৯ জুন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিবের ওপর হামলা করে। একই বছরের ২১ ডিসেম্বর যুবলীগ নেতা রাজীবের পা ভেঙে দেয়া হয়।

২০১৫ সালের ২১ আগস্ট মণিরামপুর থানায় করা ডাকাতির মামলায় হাতুড়ি বাহিনীর সদস্য খন্দকার শরিফুল ও বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আসলাম হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেনকে আসামি করা হয়। কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও প্রকৌশলী হাসান আলমগীরকে পিটিয়ে আহত করে হাতুড়ি বাহিনীর প্রধান আজিজ।

২০১৮ সালের ২৭ মার্চ যশোর প্রেস ক্লাবে কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা হাতুড়ি বাহিনীর অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এ প্রসঙ্গে কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, এক দশক ধরে কেশবপুরের মানুষ হাতুড়ি বাহিনীর কাছে জিম্মি ছিল। তাদের হাতে দলের ত্যাগী নেতারাও নির্যাতিত হয়েছে। শাহীন চাকলাদার নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার পর হাতুড়ি বাহিনীর সদস্যরা আত্মগোপনে গেছে। আশা করি, কেশবপুরে স্বস্তি ও শান্তি ফিরে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি