শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

সভ্যতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে মেয়েরা : তাহেরা বেগম জলি

নারীজাতিই সভ্যতার ভিত্তি স্থাপনের কারিগর। তাদের ঐতিহাসিক এই গৌরবের কথা আমি কোনো বিরোধ সৃষ্টি করবার জন্য লিখছিনা। আমার পাঠক মাত্রই জানেন, লড়াইয়ের ময়দানে সম্মানের ক্ষেত্রে আমি ছেলেদেরই এগিয়ে রেখেছি। এবং সে সম্মান পুরুষ জাতি-গোটা মানব জাতির কাছ থেকে আদায় ক’রে নিয়েছে। কাওকে এগিয়ে নেওয়া বা পিছিয়ে রাখা আমার কোন ক্ষমতা নয়।

ইতিহাস স্বীকৃত বিষয় এগুলো। ইতিহাস একই সঙ্গে এটাও সাক্ষী দেয়,সভ্যতা স্থাপনের গৌরবের দাবীদার নারীজাতিই। নারীজাতির সেই কর্মযজ্ঞের ধারা দেখবার জন্য,আজ থেকে দশ হাজার বছরের মধ্যের ইতিহাস আমি একটু খুড়ে দেখবো এবং আমার এই দেখা এখানে পাঠকের সঙ্গে ভাগাভাগি ক’রে নেবো।

আমি যে সময়ের কথা বলবো, তখন মানুষ এবং বন্য প্রাণীর মধ্যে প্রভেদ খুবই স্পষ্ট হয়ে গেছে-মানুষ ততোদিনে অনুসন্ধিৎসু মস্তিষ্কটা অর্জন ক’রে ফেলেছে। আর বন্য প্রাণীর ক্ষমতা আজকের মতো তখনো ছিলো নিজের ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণের জন্যই কেবল হন্যে হয়ে বেড়ানো। শুধুমাত্র পেটের ক্ষুধা নিবারণ ক’রে বেঁচে থাকবার যুদ্ধ মানুষ এবং বন্যপ্রাণী শুরু করেছিলো একসঙ্গেই। কিন্তু হঠাৎ একদিন পৃথিবী দেখলো,মানুষ এখন আর হাপুস হুপুস ক’রে কাঁচা মাংস গোগ্রাসে গিলে খায় না। আগুনে ঝলসে রীতিমত এখন তারা পোড়া মাংসের নতুন স্বাদ নিতে শুরু করেছে। আগুনের সন্ধান মানবজাতি প্রথম পেয়েছিলো হয়তো দাবানল থেকেই। তারপর ধারাবাহিক ভাবে আগুনের সঙ্গে মানুষের পরিচিত হয়ে ওঠার ইতিহাস কম বেশি আমরা অনেকেই জানি।

অতঃপর জগতে ঘটে গেলো একটা বিপ্লবাত্মক ঘটনা। পশু শিকার করতে মানুষ এখন নিজের হাতই শুধু ব্যবহার করছে না, তারা এখন হাতের সঙ্গে ব্যবহার করছে পাথর এবং সুচালো করা ডালপালা বিশেষ। তবে যে কথাটা এখানে বলা দরকার,বন্য প্রাণীর মতো মানুষও এক সময় চার হাত পায়ে ভর দিয়েই হেঁটে চলতো। কিন্তু দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় হাত দুটোকে মুক্ত করে সোজা হয়ে দাঁড়ালো মানব জাতি। এবং শুধু পায়ের উপর ভর করেই তারা হাঁটাচলা করবার অভ্যাস করে নিলো। বন্য প্রাণীর সঙ্গে মানুষের এখানেই ঘটে গেলো একটা বড়ধরণের পার্থক্য। উল্লেখ্য মস্তিষ্ক অর্জন ক’রে মানুষ বন্য প্রাণীর সঙ্গে নিজের সীমারেখা আগেই টেনে দিয়েছে। মানবজাতির এক অসাধারণ বিজয় হয়েছিলো এই পর্বে। মানুষ আগেই অর্জন করেছিলো চিন্তা করবার ক্ষমতা বা মস্তিষ্ক,সঙ্গে এবার যুক্ত হোলো মুক্ত হাতের শক্তি। এবং অন্য যে কোনো প্রাণীর সঙ্গে মানবজাতির ঘটে গেলো মৌলিক পার্থক্য। এবং এর ফলে তারা প্রকৃতির উপর একের পর এক আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করলো। সেই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে ইতিহাসের এক পর্যায়ে মানুষ হাতে তুলে নিয়েছিলো পশু শিকারের জন্য পাথর এবং শক্ত ডালপালার হাতিয়ার। যে হাতিয়ারের সাহায্যে মানুষ তখন শুধু পশু শিকারই করেনি,আত্মরক্ষা করবার কৌশলও শিখে ফেলেছিলো তারা। এর আগে খাদ্য সংগ্রহের জন্য মানুষের সম্বল ছিলো শুধু দুটো হাত। রবার যুক্ত পাথর বা ডালপালার অস্ত্র বিশেষ।

আজ থেকে দশ হাজার বছর আগে চলছিলো চতুর্থ বরফ যুগ। ভয়ানক সেই ঠাণ্ডা থেকে বাঁচবার উপায় হিসেবে মানুষ তখন শরীর আবৃত করেছিলো গাছের বাকল এবং পশুর চামড়া দিয়ে। নইলে সে সময় মানুষের স্বাভাবিক জীবন ছিলো পুরোটাই নগ্নতা নির্ভর। নারী পুরুষ উভয়েই সে সময় নগ্ন শরীর নিয়েই চলাফেরা করতো। তারা তখন ছিলো প্রকৃতির সন্তান। মানুষ প্রথম শরীর আবৃত করবার প্রয়োজন অনুভব করলো প্রচন্ড ঠাণ্ডার ধাক্কা সামলানোর জন্য। নইলে নগ্ন শরীর নিয়ে তাদের আর কোনো সমস্যা হচ্ছিল না। তবে আজ এখানে দাঁড়িয়ে আমাদের ভাববার কোনো কারণ নেই, সেদিনের মানুষ আজকের আব্রু বা শালীনতার ধারণা দ্বারা পরিচালিত হোতো। বরং মানুষ তখন একই গুহা বা আস্তানায় ঘুমাতো দলের সকলে একই সঙ্গে এবং নগ্ন শরীর নিয়েই। এভাবে চলাফেরা করতে তাদের সাবলীলতার কোনো অভাব হোতো না। আমরা আজকাল হরহামেসা যে পর্দা বা শালীনতার কথা বলি,শালীনতার এই সংস্কৃতি খুবই সাম্প্রতিক বিষয়।

যদিও এসব কথা এবং ধারণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানান ধরণের বিকৃতিও। এবং নারীকে ফেলে দেওয়া হয়েছে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে। যেন আদিম কাল থেকেই নারীর জন্য তৈরি হয়েছে পোশাকের বিধান। আমাদের মনে রাখা দরকার, শরীর আবৃত করবার ধারনা এসেছে বিরূপ আবহাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করবার উপায় হিসেবে। তাছাড়া আর কোনো কারণ নেই। এবং তা মাত্র দশ হাজার বছর আগে,নারী পুরুষ সকলের জন্যই। অতএব কাপড় শুধুই নারীর জন্য,ইতিহাস ঘাঁটলে এই অসার কথার আলগা বাঁধন খসে পড়তে বেশি সময় লাগবে না।

পোশাক তৈরির আরম্ভের জামানায় এবার আসবো। আমি আগেই বলেছি পশু শিকার ক’রে ক্ষুধা নিবারণ করাই ছিলো একসময়ের মানুষের মূল ভাবনা। এবং সে সময় কিছুটা উন্নত হাতিয়ার ব্যবহার করাও মানুষ আয়ত্ত্ব ক’রে ফেলেছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিলো খাদ্য সংকটের কারণে। মাঝে মাঝে তখন পশুর সংকট দেখা দিতে শুরু করে। কারণ বনের সামান্য ফল মূল ছাড়া মানুষ তখন বন্য প্রাণীর মাংসের উপরেই ছিলো শতভাগ নির্ভরশীল। আমাদের আবার এদিকে একটু খেয়াল রাখতে হবে,সকল নারীই কিন্তু দলের সঙ্গে সব সময় শিকারে বের হতে পারতো না। কারণ সন্তান ধারণের কারণে কিছু কিছু নারীকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও গুহা বা আস্তানায় অবস্থান করতে হোতো। এবং এই সকল নারীরা এক সময় আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলো,সংরক্ষিত কোনো পশু বাচ্চা দিচ্ছে বা কোনো পরিত্যাক্ত ফল থেকে গাছের নতুন চারা জন্ম নিচ্ছে। নারীজাতির এই পর্যবেক্ষণ, সদ্য উঠে দাঁড়ানো মানবজাতির পায়ের নিচের মাটি এবার আরও শক্ত ক’রে দিলো। জীবনের ক্ষেত্রে মানবজাতি হয়ে উঠলো আরও আস্থাবান।

আর নারীসমাজ সেই মুহূর্তে হয়ে গেলো ইতিহাসের চালিকাশক্তি। সন্তান প্রসবের অপেক্ষায় থাকা নারীদের গুহা বা আস্তানা সে সময়ে যেন হয়ে উঠলো একেকটা গবেষণাগার। অবসাদগ্রস্ত ক্লান্ত,পা টেনে টেনে চলা নারীরা অসাধারণ এই আবিষ্কার করতে পেরে,নতুন ক’রে পেয়ে গেলো তাদের জীবনের সন্ধান। এবং আশ্বস্ত হোলো এই ভেবে,বেঁচে থাকবার সংগ্রামে অবসরে থেকেও তারাও পিছিয়ে নেই। সেই মুহূর্তে কি নারীসমাজ বুঝেছিলো,সভ্যতার সোপান তৈরি ক’রে গেলো তারাই! তারা বুঝুক আর না বুঝুক এতাই সত্য সভ্যতার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হয়ে গেল নারীজাতির হাতেই। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চয় সেদিনের অবসাদ্গ্রস্ত নারীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। কারণ শুধু খাবার যোগাড় করতেই তখন মানুষের জীবন হাতে ক’রে ছুটতে হোতো বন্‌ জঙ্গল এক ক’রে-জীবন হাতে ক’রে। স্বাভাবিক কারণেই সেই মুহূর্তে নারীজাতির এই উদ্ভাবন মানবজাতিকে জুগিয়েছিলো বেঁচে থাকবার এক অসাধারণ শক্তি। গুহা বা আস্তানায় থাকা নারীরা এবার নতুন উদ্দমে পশুর নতুন বাচ্চা এবং নতুন জন্মানো গাছ বা ফসলের পরিচর্যা করা শুরু করলো।

কালের বিবর্তনে এক সময় গৃহ পালিত পশু এবং আস্তানার আশেপাশে জন্ম নেওয়া নানান ধরণের গাছই মানুষের জীবন ধারণের প্রধান উপায় হয়ে দাঁড়ায়। এবং স্বাভাবিক নিয়মেই বেঁচে থাকবার নতুন এই উপায় বেশি মানুষের শ্রমের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এতোদিন যারা পশু শিকারে নিয়োজিত ছিলো, নিজেদের এবার তারা নিয়োজিত করলো গৃহে-পশু পালন এবং ফসল পরিচর্যায় বা কৃষি কাজে। তাছাড়া নতুন এই জীবন মানুষকে কিছুটা ঝুকিমুক্তও ক’রে দিলো। কারণ ভয়ংকর সব প্রাণী শিকার করতে গিয়ে এখন তাদের আর বিপদে পড়তে হয় না। প্রতিদিন হারাতে হয় না একেকটা জীবন। কিন্তু যা এখন ঘটলো,পশু পালন এবং ফসল পরিচর্যা করবার ক্ষমতা ধীরে ধীরে চলে গেলো পুরুষের জাতীর দখলে। পুরুষের দখলে এগুলো যাওয়ারও একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কিন্তু তা এখানে আমার আলোচ্য নয়। তা বলবো অন্য দিনে,অন্য সময়ে,অন্য কোনোখানে। ফিরে আসি আগের কথায়। পশু পালন এবং ফসল দেখ্ভা‌ল করা যখন পুরুষ জাতির করায়ত্বে চলে যায়,ঠিক এই সময়টায় নারীজাতির অনুসন্ধিৎসু মন আবার সন্ধান করতে থাকে নতুন কোনো কিছু সৃষ্টির। তারা এবার ভাবলো ঠান্ডায় শরীর আবৃত করবার জন্য গাছের ছাল বা পশুর চামড়ার বাইরেও নিজেরা তো কিছু আবরণ তৈরি করতে পারি।

তারা লক্ষ্য করলো নানান ধরনের ফসলের ছন বা বিভিন্ন ধরনের আশ তাদের আশেপাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। সৃজনশীল নারীর দল এবার সেই সব আশ,ছন সংগ্রহ ক’রে হাত দিলো বয়ন শিল্পের কাজে। তবে আমরা যেন এটা মনে না করি,আজকের তাত শিল্পের মতোই ছিলো হাজার হাজার বছর আগে গড়ে ওঠা কাপড় তৈরির হাতিয়ার। কিন্তু তারপরেও আমাদের আজ স্বীকার করতেই হবে সেদিনের সেই কাপড় আবিষ্কারই আজকের যেকোনো ধরণের মহা আবিষ্কারের পথ প্রদর্শক। যাইহোক পশু পালন এবং কৃষি কাজের সঙ্গে এবার যুক্ত হোলো বয়ন শিল্প। যা মানুষকে পৌঁছে দিলো প্রকৃতই আলোকিত এক পৃথিবীতে। খাদ্যকে সংগ্রহ থেকে-খাদ্য উৎপাদনে রূপান্তরিত ক’রে,প্রচণ্ড ঠাণ্ডা থেকে নিজেদের রক্ষা করবার উপায় বের ক’রে,মানুষ নতুন শক্তি নিয়ে যেন ঝাপিয়ে পড়লো নতুন এক জীবন যুদ্ধে। আজ আমাদের স্বীকার করতেই হবে, নতুন এই আলোকিত পৃথিবীর আলোকবর্তিকা ছিলো তৎকালীন নারীসমাজই। হিসাব মিলিয়ে আজ একথা অস্বীকার করবার উপায় নেই,আদিম মানব সমাজে সৃষ্টির জয়যাত্রা শুরু হয়েছিলো নারীজাতির হাত ধরেই। এবং নারীসমাজ তাদের সব আবিষ্কারই পরিণত করেছিলো সামাজিক সম্পদে। পরবর্তীতে যা পুরুষসমাজ দখল ক’রে নিজেদের কুক্ষিগত ক’রে নেয়। ইতিহাসের কোনো এক পর্বে পুরুষ জাতির আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় বয়ন শিল্পের উপরও। কেন এবং কিভাবে এসবের হাত বদল হয়ে নারী জাতীর হাত থেকে পুরুষ জাতীর করায়ত্ব হয়ে গেলো,তারও একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কিন্তু সে বিষয় এখানে আলোচ্য নয়।

শুরুতে আমি বলেছি সভ্যতার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছে নারী সমাজ। এবং নারী সমাজের এই কৃতিত্বের উপর আলোকপাত করাই ছিলো আমার আজকের লেখার মূল উদ্দেশ্য। আমি এখানে ইতিহাস খুড়ে বের করবার চেষ্টা করেছি,নারীসমাজ একসময় শক্তিশালী মানবসমাজেরই অংশ ছিলো। নারীসমাজের নেতৃত্বেই কখনো কখনো সমাজ এগিয়ে গেছে। এবং মানবজাতি যখন ভুগছে অস্তিত্ব সংকটে,সেই দুঃসময়ের হাল ধরেছে নারীজাতিই। আমরা আজ যা প্রায় ভুলতে বসেছি। বরং উল্টো বলা শুরু করেছি,ওরা মেয়ে মানুষ। পুর্নাঙ্গ মানুষ নয়।

কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার,ইতিহাসের কোনো সৃষ্টিশীল পর্ব ভুলে যাওয়া বা অস্বীকার করা মানেই, এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথের নিশানা হারিয়ে ফেলা। আমরা সেই আত্মঘাতী পথে তাই কিছুতেই হাঁটতে পারিনা। আজ এখানে আমি আর একটা খুবই প্রাসঙ্গিক কথা বলবো। আজকাল উচ্চ কলরব উঠেছে, ধর্ষণের জন্য নারীজাতির পোশাক অনেকাংশে দায়ী। কিন্তু ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেলো পোশাক এক সময় ছিলোই না। মানবজাতির জীবন ছিলো তখন নগ্নতানির্ভর। আমরা আজ অন্ধকারে যতোই মুখ ঢাকি না কেন,তারপরেও এটাই সত্য। বরং নারীজাতির হাত ধরেই আমাদের পোশাক আলোর মুখ দেখেছিলো বিরূপ আবহাওয়া থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করবার উপায় হিসেবে। নইলে নারী পুরুষ উভয়ই এক সময় নগ্ন শরীর নিয়ে স্বচ্ছন্দেই জীবন পার করেছে। যদিও আজ সে বাস্তবতা খুবই অপ্রাসঙ্গিক।

লেখক : কলামিস্ট এবং রাজনৈতিক কর্মী।

সহায়ক গ্রন্থ :
# সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ-রেবতী বর্মণ
# সে-যুগে মায়েরা বড়-দেবীপ্রসাদ চট্টপাধ্যায়
# মানব সমাজ-রাহুল সাংকৃত্যায়ন

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি