রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

লালমাই জামাইকে মাদক মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে শশুর কারাগারে

লালমাই (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :: লালমাইয়ে বিয়ে ও মামলা সংক্রান্ত দ্বন্ধের জেরে নিজের আপন মেয়ের জামাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন শ্বশুর। গত ১১ নভেম্বর সকালে পুলিশ শ্বশুর মোঃ স্বপন মিয়া (৪০) কে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে শ্রীঘরে প্রেরণ করেছেন। একই দিন তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, লালমাই উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের তুলাতুলী গ্রামের মোঃ স্বপন মিয়ার (৪০) কন্যা স্বপ্না আক্তার পরিবারের অনুমতি ছাড়াই একই ইউনিয়নের তুলাতুলী বেলঘর গ্রামের মোঃ নুরুজ্জামানের ছেলে অটো রিক্সা চালক মোঃ সাকিব হোসেনের সাথে পালিয়ে বিয়ে করেন। এঘটনায় জামাই সাকিবের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন শ্বশুর স্বপন মিয়া। পালিয়ে বিয়ে ও মামলা সংক্রান্ত দ্বন্ধের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্বপন মিয়া গত ৩ নভেম্বর সাকিবকে ফাঁসাতে তার অটো রিক্সার পিছনের সিট কেটে গোপনে ৫পিচ ইয়াবা রাখেন।

এরপর বিকাল অনুমান ৩.০৪টায় স্বপনের কথামতো বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারের ছেলে মোহাইমিনুল ইসলাম জনি প্রকাশ জনি মজুমদার ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কনস্টেবল শরীফ কে ফোন করে জানায়, কিছুক্ষণ পর একটি নতুন অটো রিক্সা ভুশ্চি বাজার হতে গৈয়ারভাঙ্গা সড়কে আসবে। সেই অটো রিক্সার সিটের ভিতরে ইয়াবা রয়েছে।
সংবাদ পেয়ে ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম ও এএসআই রেজাউল করিম কনস্টেবল শরীফসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তল্লাশীর উদ্দেশ্যে সড়কে অবস্থান নেন।

কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর অটো রিক্সাটি না আসায় জনিকে ফোন দিলে সে জানায়, ওই অটো রিক্সাটি গৈয়ারভাঙ্গায় চলে গেছে। এরপর পুলিশ গৈয়ারভাঙ্গা সড়কে গিয়ে হাড়াতলী গ্রামস্থ হাড়াতলী ভাই ভাই স্টীল ওয়ার্কসপের সামনে অটো রিক্সাটি থামায়। সে সময় পুলিশ দেখতে পায়, নতুন অটো রিক্সার সিটের পিছনে অংশে কাটা। কাটা সিটের ভিতরের অংশে ৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। পুলিশকে চালক তাৎক্ষনিক জানায়, কেউ ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানোর জন্য এমনটা করে থাকতে পারে।

চালকের বক্তব্য বিশ্বাস করে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে থানায় মাদক আইনে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন।

গত ১১ নভেম্বর সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জীবন রায় চৌধুরী প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মোঃ স্বপন মিয়াকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সবকিছু স্বীকার করেন। একইদিন তিনি কুমিল্লার ৯নং আমলী আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট ১৬৪ ধারায়স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, নিজের মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করায় ক্ষুব্ধ হয়ে মিয়া বাজারের একজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫পিচ ইয়াবা ক্রয় করে জামাই সাকিবকে ফাঁসাতে তার রিক্সায় সিট কেটে রেখে জনি মজুমদারের মাধ্যমে পুলিশ তথ্য দেন।

অটো রিক্সা চালক সাকিব বলেন, আমাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে আমার শ্বশুর নিজেই ফেঁসে গেছেন। তবে পুলিশের সঠিক তদন্তের কারনেই আল্লাহ আমায় রক্ষা করেছেন। আমি লালমাই থানা পুলিশের নিকট কৃতজ্ঞ।

লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, কাউকে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে ফাঁসাতে গেলে ষড়যন্ত্রকারী নিজেই ফেঁসে যেতে পারেন। এ ঘটনা তার উদাহরন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি