শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

সুবর্ণচরের অন্যরকম পেশাদারিত্ব ও মানবিকতায় অফিসার ইনচার্জ মো. সাহেদ উদ্দিন

মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি: কোন গল্প বা কল্পকাহিনী নয় আজ এমন একজন মানুষের মানবিকতার কথা বলবো যিনি পুলিশের চাকুরী ও মানবিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে হয়ে উঠেছেন এক পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার পুলিশ কর্মকর্তা । মানবিকতা ধারণ করা গেলে যে কোনো পেশায় থেকে যে ভালো কিছু করা যায় তা দেখিয়ে দিয়েছেন । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি অনেকবার তার ভালো কাজ ও মানবিক কাজের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন এবং পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।

আবদুল আলিম মোল্লা পারিবারিক জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে এসেছেন। থানার ফটকের ভেতরে ঢুকতেই ভয় পাচ্ছেন, ডিউটিরত এক নায়েককে জিজ্ঞাসা করলেন বড় সাব কোথায় বসে,তিনি দেখিয়ে দিলেন থানার নিচেই স্যার বসে আছেন,একটু এগিয়ে চোখ পড়তে দেখেন বড় সাব নিচে বসে এক ষার্টোব্ধ বৃদ্ধকে সমস্যা সমাধান করে দিচ্ছেন।কাছে গেলেই বড় সাব বলেন চাচা কেন আসলেন,বসেন। তিনি বড় সাবের সামনে বসে নিজের সমস্যার কথা বলা মাত্র একজন এসআইকে দায়িত্ব দিয়ে তৎক্ষনিক ভাবে সমস্যা সমাধান করে দিলেন। সত্যিই পেশাদারিত্ব ও মানবিকতায় চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহেদ উদ্দিন ।

উপকূলীয় উপজেলা সুবর্ণচরে চরজব্বার থানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেকে এসেছেন অফিসার ইনচার্জ হিসেবে। অনেককে দেখেছি, দেখেছি তাদের পেশাদারিত্ব। এদের মধ্যে মো.সাহেদ উদ্দিন ভিন্নতর মানুষ।

সুবর্ণচর যখন ধর্ষণের ঘটনায় পর পর ধর্ষিত ঠিক সে সময়ে তিনি যোগদান করলেন চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে। একের পর এক আটক করতে সক্ষম হলেন সুবর্ণচরের চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার (জাতীয় নির্বাচনের দিবাগত রাতে)আসামিদের।

যোগদানের কয়েক মাস পরপরই আবারও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন পর ঘটলো গণধর্ষণের ঘটনা। সেই মামলার আসামিদের দ্রুত আদালতে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

তাঁর সফলতা পিছনে রয়েছে নিজের মেধা,সেবার মানসিকতা, পেশাদারিত্ব ও একঝাঁক তরুণ চৌকষ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে সুবর্ণচরের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন নিরন্তর। তাঁর আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বে সুবর্ণচরে ধর্ষণের ঘটনা প্রায় কমে এসেছে। কমেছে ভুয়া ও মিথ্যা মামলার সংখ্যা। বিরোধীরাও তাকে জনবান্ধন অফিসার হিসেবে দেখছে।

সবচেয়ে লক্ষনীয় দিক হলো চরজব্বার থানা এ প্রথম বারের মতো দালাল মুক্ত হয়েছে। এখন থানার নিচে বা আশপাশে দালালদের আর দেখা যায় না। সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা অনায়াসে সেবা পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যেকোন ঘটনা ঘটলে সংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন প্রতিনিয়ত। যত দূর্গম পথই হোক ঘটনা স্থলে না পৌঁছে অনুমান নির্ভর তথ্য তিনি কখনো দেননি। তাঁর সঠিক তথ্য আমাদের সংবাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। নিজের অবস্থান থেকে কখনো বাজারে দ্রব্যমূল নিয়ন্ত্রণে নিজে ছুটে বেড়াচ্ছেন হাটে বাজারে আবার কখনো সহযোগিতা করছেন উপজেলা প্রশাসনকে।

আজ বৈশ্বিক দুর্যোগেও তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়। সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে ঝুুঁকি নিয়ে নিজে ছুটেছেন এবং তাঁর সকল কর্মকর্তারাও কাজ করছে। শুধু সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত নয়, নিন্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও গরীব মানুষকে খাদ্য সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এছাড়া সমাজে বিত্তবানদের উদ্বুদ্ধ করছেন গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ইতোমধ্যে কয়েকজন এগিয়ে এসেছেন ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

আমারা সবাই পুলিশকে গালাগাল করি, দোষ খুঁজি সব কাজে। হ্যাঁ দোষ থাকবে এটা ঠিক কারণ সে মানুষ, ফেরেস্তা নয়। আর মানুষই দোষ ত্রæটি করবে। তাই ভাল কাজের প্রশংসা করুন আর খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। মানুষ তো মানুষের জন্য।

চলমান মহামারিতে পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে, শুধু সেবা দিতে গিয়ে। আপনার আপন জন করোনায় মারা গেলে দাপন কিন্তু পুলিশই করছে। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের বিপদে দাঁড়িয়েছে তাঁদের জন্য দোয়া করুন। আল্লাহ যেন সবাই ভালো রাখে সুবর্ণচরবাসীর পক্ষ থেকে আপনি ও আপনার সকল পুলিশ তথা দেশের সকল পুলিশ ভাইদের জন্য দোয়া ও ভালোবাসা রইল।

সুবর্ণচর উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আমির খসরু মাহমুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নেয়া মানবিক অফিসার নোয়াখালী জেলাধীন,চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ, মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন। যিনি নেতা একরামুল করিম চৌধুরী এমপি মহোদয়ের পরে সব সময় আমাদের ছাত্রলীগের কর্মীদের সমর্থন অনুপ্রেরণা দিয়ে যান মানুষের কল্যাণে কাজ করতে বিপদের ও দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

অত্যন্ত সৎ মিষ্টভাষী অফিসার ইনচার্জ মো.সাহেদ উদ্দিন। উনার সংস্পর্শে যখনই আসা হয় তখনই নতুন কিছু শেখা হয়। উনার কর্মকান্ড দেখে মুগ্ধ হয় অনুপ্রাণিত হয় এগিয়ে যাওয়ার সাহস পায় মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ অনেক বেড়ে যায়। একজন সরকারি কর্মকর্তা কতটা মানবিক হতে পারে সেটা উনাকে না দেখলে বোঝা যায় না।

যিনি দেশের এ মহামারী পরিস্থিতিতে সুবর্ণচরের সর্বস্তরের মানুষের খোঁজ রাখছেন। যাদের খাবারের সংকট খাবার কিনতে পারছেনা তাদের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। অসচেতন মানুষদের সচেতন করার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।

পরিশেষে উনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। সুবর্ণচরের মানুষের জন্য উনার এই ভালোবাসা চিরদিন থাকুক সেই আশাই করি।

চর জব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ আলহাজ্ব মো.সাহেদ উদ্দিনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, আমাদের পেশাদারিত্ব দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করবো এবং পুলিশই হবে মানুষের আস্থার ঠিকানা । পুলিশি সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার জন্য নিরলসভাবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি